অরুণ দাস

এক .

দুচোখে লিখে রাখি
অগুন্তি ছায়াপথ
নির্জন স্তন ছুঁয়ে থাকা
দৈবিক বাতাস ৷

দুই.

মায়াময় বর্ষা রাতে
মনের গভীরে আঁকি মেঘ
পাখির চোখে পাহাড়ি ঘুম
অন্ধরাত ছুঁয়ে মিলিয়ে যায়
মনখারাপ ৷


তিন.

……. নিরিবিলি সন্ধ্যায়
মেঘ মুছলেই ছুঁয়ে ফেলি
আকাশ
তোকে লিখি,
এক ইশারায়
নদীর গভীরে ডুবে থাকা
অন্ধকার ৷

চার

বৌদ্ধিক স্বপ্ন ছুঁয়ে যাওয়া
প্রাণ,
লিখে রাখে কুমারী গান ৷

………………………………….
পর্ণমোচী গাছেরা
নিভৃতে শোনে
নিঝুম নদীর গান
কান পাতলেই
বুকের মাঝে
জড়ো হয় ক্ষত
গানহীন বুকের প্রাণ

……………..

পাঁচ.

বন্ধ চোখ
অনায়াসে ছুঁয়ে ফেলে
উদাস জ্যোৎস্না
সুগন্ধী বাতাসের শব্দে
ঝরে পড়ে
সান্ধ্য গ্রাম ৷
জীবন যেন
শেখানো
শব্দকোষ
সবুজ সমুদ্রে
ডুব
অজ্ঞাতবাস ৷

ছয়.

আকাশ জুড়ে
নিভু আঁচের আগুন,
অনায়াসে
শিখে যাওয়া শীত ৷
তুই যেন
খেয়ালহীন কুয়াসায়
নেমে আসা সন্ধ্যের হাত
মেঘের আড়ালে
হারিয়ে যাওয়া
ভুল স্বপ্নের হাতছানি ৷


সাত.

তুমি ঘুমোও
আধশোয়া স্তনে গাঁথছি পুটুস
নরম ছবিতে জাগে অস্পষ্ট
বারন্দা
মদমাখা খুনসুটি
একদিকে অন্ধদের আস্তানায়,
অন্যদিকে নীরোর বীনায় ৷

আট.

সূর্য ডোবার আগে
বরফ মেপে নিচ্ছে তাপ
নাভির অন্ধকার ছেড়ে আসা
সুর
আঙ্গুলের পাগলামি
তলিয়ে যাই অন্ধকারে
অতৃপ্ত সবুজ ছিনিয়ে নেয়,
হারিয়ে যাওয়া সূর্য ৷

……………..

নয়.

হাঁটতে হাঁটতে একদিন,
শান্ত সমুদ্র
ঢলে পড়ে
সূর্যনীল আকাশে ৷
মায়াবী ঢেউ-এর ডাকে,
উড়ে যায়
সোনালী জলের
ঘুমহীন
ঘুম পাখিরা।
…. শান্তি যেন
শীতরাতের
সোহাগী ডাক
নীল জল
ছুঁয়ে থাকা
নির্জন চাঁদ৷

দশ .

বুক ছোঁয়া দুপুর
রোদ খুলে দিই তোর কপালে
ঘামের মধ্যে চিনে ফেলি,
টুকরো নারীদের তৃষ্ণা ৷
মুগ্ধ আগুন ছুঁয়ে যায়
পাখিদের ছায়া
ক্রোধের আগুনে ফাগুন
আঁকে,যে কুমারী রোদ
জলের জঙ্গলে শুকিয়ে
যাওয়া হ্রদ ৷
মাতাল পথে
এঁকে বেঁকে ঝরে পড়া বদ্ধ
বাতাস ৷
গুপ্ত গিরিখাত
সতর্ক সোহাগ মাখে
সোনালী
ডানার বুকে ৷

……………..

এগারো.

চাঁদ লিখি আজ
শুকনো পাতার বুকে
আগন্তুক আগুন
জ্যোৎস্নাডুব জোনাকীরা
ছুঁয়ে থাকে স্বপ্ন রাত
আর জন্মাবো না বলেই
চিনে নিই
বুনো গন্ধে ম-ম মৃত্যু
সুগন্ধী শরীরের
প্রতিটি বাঁক৷

বারো.

হিমেল বাতাস
লেখা হাত
ঝিঁঝিঁর ডাকে
স্বপ্ন শেখে
মুখর রাত ৷

…………………………

তেরো.

স্মৃতি যেন জীবন্ত ঝরণা
সন্ধ্যে নদী খুলে রাখা রাত
পাতা খুললেই মৃত জ্যোৎস্না
স্বপ্ন সোহাগ ভেজা হাত ৷
……………

শরীরী সফর
শেষে
হলুদ মেঘ
মেখে থাকে
পথ ৷
তৃপ্ত জ্যোৎস্না নামে
ঢেউ খেলানো
নিসর্গ
শরীরে ৷

চৌদ্দ.

সূর্য ফেরত আড্ডায়
ডুবুডুবু
তোকে দেখি চূর্ণী …..
রহস্যময় গুহার অন্ধকারে
চিনে ফেলি বুকের শৃঙ্গ
পরিপূর্ণতা যেন ,
কাল্পনিক সৌন্দর্য
ছুঁয়ে ফেলা
ছুঁয়ে ফেলা
রেশমী হাওয়ার রাত ৷
………………

আজ ইশারায় উড়ে যায় চোখ
তোর শরীরী দেওয়াল জুড়ে
নিভৃতে
এঁকে ফেলি দুর্মূল্য দৃশ্যপট ৷

…………………………

পনেরো .

সবুজ শান্তি লিখি
পাতার ভাঁজে
শব্দহীন দুপুর
লিখে রাখি
ছায়া মাখা পথের বাঁক
লালমাটির রাস্তা জুড়ে
ঝোলানো জঙ্গল
অবাক নদী
শুয়ে থাকে , আগন্তুক শরীরে

ষোলো.

আজ
মোহময় সূর্য ভেজা
অন্ধকার
কেঁপে ওঠে
দিব্য অজুহাতে
ইশারা মাখে
নিভৃত আঙ্গুলের ডাক৷

সতেরো.

ঠোঁটের মধ্যে শব্দহীন ঠোঁট
বাতাসের হিমভাব
পুব আকাশের লালচে আভায়
শিউরে ওঠে
ভোরের নরম আলো
ছুঁয়েছে যে পাখি ৷

…………………………

আঠারো .

ভাঙতে ভাঙতে একদিন
ধূলোমাখা নদী
শুয়ে থাকে
সূর্য মাখা অন্ধকারে ৷
ভাঙতে ভাঙতে একদিন
নীল বাতাসের ডাকে
পাল্লা দেওয়া রাতঘুম ৷
ভাঙতে ভাঙতে একদিন
সূর্যোদয় শেখে
কুয়াসা মাখা শূন্য মাঠ ৷
সফর শেষে ……
উচ্ছ্বাস ভরে যাওয়া অক্ষরে
লিখে রাখি নিঝুম গান
বর্ণমালা শেখে
অলৌকিক প্রাণ ৷

ঊনিশ .

আজ
সোহাগী স্বপ্ন ঘিরে
হিম বাতাস লিখে রাখি
তোর শূন্য শরীরে ৷

…………………………

কুড়ি.

তুই হাসলেই একফালি রোদ
উধাও হই ফেরার পথে
ভালোবাসা লেগে থাকে ,
পাতাহীন বরফ মেঘে
মৃদ্যু জ্যোৎস্নায়
চাঁদ নামে
আলোমাখা মুখস্থ শরীরে ৷

একুশ.

একাকার বনপথে লিখি সবুজ
রাত যেন ভূত শেখা অন্ধকার
আবৃত শব্দহীন নিঝুম
জলের শব্দে ভেসে যায় ,
আসন্ন সোহাগী রাত
তুষার সন্ধ্যের ছায়াদের ডাকে
তোর চোখের কাজলে আঁকা
চাঁদ৷

…………………………

বাইশ .

তোর বুকে
স্বপ্নছুট ঝরনা
রাতের গন্ধে রাতচরা নদী
তোর বুকে
বাকরুদ্ধ মেঘ ছুঁয়ে ফেলা
বরফগলা বৃষ্টিঘুম
তোর বুকে
স্নেহময় স্তনের গভীরে …
নীলবর্ণ শ্বাস
আজ………….
হৃদরঙা অক্ষরে
নিভৃতে ছুঁয়ে ফেলি
স্বপ্নখেলা
অন্তহীন আকাশ ৷

…………………………

তেইশ .

একফালিতে ঝরে পড়লি তুই
মেঘলা আকাশে
পাহাড়ি সুর ফেলা
এক ফালি রোদ
সূর্যের ঘোর ভাঙলে ,
অনায়াসে শিখি বনপথ
বুনোপথ
শরীরী পাতার মর্মর ৷
ভালোবাসা যেন পথের স্মৃতি
বুকের গোপন গাছ
মুগ্ধ আগুনে চিনে নেওয়া
আয়নার
হাঁটাপথ
তুমুল বৃষ্টি রাতে
পা ফেলা অন্ধকার ৷

চব্বিশ .

ঘন রাত ঘন চাঁদ
ঝরে পড়ে
শীতল অন্ধকার
তোর শরীরে ছোট্ট সফর
বুকের পাহাড়ি পথে
চুঁইয়ে আসা রোদ
ভোরের শিশিরে শিখে যাওয়া
নীল নাভির গন্ধ
মনের আগুন রাত
চিনে নেয়
স্বপ্নহীন সন্ধ্যে
নিঝুম অন্ধকারে
শরীরী উল্কাপাত ৷

…………………………

পঁচিশ .

অবাক মেঘ ঘিরে আছে
স্বপ্নকে
বাকরুদ্ধ ঘুম ভেঙে গেলে
রাত নেমে আসে, নীলাকাশে ৷
নদীর শব্দে জেগে ওঠে
চেনা ঘাস ৷

ছাব্বিস .

চূর্নী, স্বপ্ন যেন শৈশবের ঘুম
ফুলেল ভোরে শরীরী
তুষারপাত
মাথার আকাশ ভেঙে ,
অন্ধ সোহাগ ছুঁয়েছে যে
তাঁবুর গন্ধ ৷

সাতাশ .

আজ পর্ণমোচী ভোরে
বজ্র নামুক
বরফ মাখা স্তনের গভীরে ৷

…………………………

আটাশ .

চোখ খুললেই….অন্তহীন গুহা
পাহাড় শেখায় বাতাসের ঘুম
প্রকৃতি যেন হাঁটাপথ
খেয়ালী মনে জমা ইতিহাস।
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
খুঁজে নিই,
পাথরের ঘুমের মধ্যে
লুকিয়ে থাকা
উধাও দুপুর ৷
রাস্তা লেখে
ধূলোমাখা
উদ্দাম বৃষ্টিঘুম ৷

ঊনত্রিশ .

অপার্থিব রং তোর শরীর
জুড়ে
মৃত্যুঘন্টা ঢেকে রাখি
বরফের কোলে
নিঃশ্বাসে চিনে ফেলি অপেক্ষা
অপেক্ষার আগুন ৷
বুকের পাহাড়ে পা ফেলা
ইচ্ছেডানা…
একাকী আজ
নির্জন গাছের ছায়ালাপ
খুলে দেখি
শরীর জুড়ে সাজানো
সবুজ ঘাসের মাঠ ৷
……………..

চূর্নী, তোর বরফ প্রানে লেখা
অক্ষর
নিভৃতে আঁকা নীল আকাশের
ভোর ৷

ত্রিশ .

আজ বুনো গাছের গন্ধে নেমে আসে অন্ধকার ৷ এক ইশারায় মায়াবী বনে উঠাও হই ৷
অপার্থিব অন্ধকার ছুঁয়ে যায় পাখিরা ৷ চাঁদ ভেজা অগুনতি সবুজ ৷ বুকের আদর ছুঁয়ে জমা অন্ধকার ৷ ভেজা স্বপ্নে ছুঁয়ে থাকে ছায়া ৷ চেনা পথ জুড়ে অদ্ভুত স্তব্ধতা ৷ আমাদের ডুব সাঁতার ৷ কুয়াসা ছোঁয়া নদী৷
………

চূর্নী, তোকে ছুঁয়ে একডুব জংলি চুপকথা ৷ বৃষ্টি নামুক খেয়ালী ঠোঁটে ৷



…………………………

একত্রিশ .

এই যে তুই,

হিমেল বাতাসের স্পর্শ
আকাশ মাখা মিঠে রোদ
শরীরের বাঁধ ভেঙে
মনের মধ্যে জোনাকী বুক

এই যে তুই ,

প্রাণ ভেঙে নিভৃত উড়ান
প্রাণ জুড়ে শিখে নিস
অল্প চেনা ঠোঁটের স্বাদ

এই যে তুই,

অরণ্য শেখা অপার নির্জনতা
ভুল পায়ের শব্দে ঝরা দুপুর
রাত ভেজা
সূর্যাস্ত ভেজা রং-এর খেলা

এই যে তুই ,

জ্বলে ওঠা পরিযায়ী আগুন
নরম আলো ভেজা বুক
নীল আকাশের নষ্ট অন্ধকার

এই যে তুই ,

জীবন যে শব্দহীন স্রোত
উধাও মেঘে লেখা গহীন বন
কুয়াসা ভেজা শরীরে
অতৃপ্ত আলাপ
দূরের পাহাড় ছুঁয়ে ফেলিস
শব্দহীন প্রতীক্ষায়

আজ
নিভৃতে
নীরবে
অনায়াসে
মন ভাঙি
মন গড়ি
তোর শৌখিন,
স্তনের ক্যানভাসে ৷

…………………………

বত্রিশ .

বর্ণহীন ইতিহাস,
শুধু স্বপ্নে মেলা থাক ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *